মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০২৪

  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজকের পত্রিকা  |  ই-পেপার  |  আর্কাইভ   |  কনভার্টার  |   অ্যাপস  |  বেটা ভার্সন

মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০২৪

  |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজকের পত্রিকা  |  ই-পেপার  |  আর্কাইভ   |   কনভার্টার  |   অ্যাপস  |  বেটা ভার্সন

রানি এলিজাবেথের জীবনাবসান

বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

বার্তা সরণি প্রতিবেদন

বার্তা সরণি প্রতিবেদন

| অনলাইন সংস্করণ

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার জানান, শুক্রবার থেকে তিন দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করবে বাংলাদেশ।

সত্তর বছর ধরে যুক্তরাজ্য শাসন করে আসা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর বছর। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে দ্বিতীয় এলিজাবেথ অধ্যায়ের যবনিকাপাত ঘটল। তার উত্তরসূরি হিসেবে সিংহাসনে আসছেন বড় ছেলে যুবরাজ চার্লস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন ক্ষয়িষ্ণু, সমা্জ যখন বদলাচ্ছে, তখন রাজদণ্ড হাতে নিয়ে রাজপরিবারের আসন অটুট রেখেছিলেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ, হয়েছিলেন সবার শ্রদ্ধার পাত্র।
রাজা ষষ্ঠ জর্জের মেয়ে হিসেবে ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ সিংহাসনে অভিষিক্ত হওয়া এলিজাবেথের শাসনকালই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দীর্ঘতম। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে গোটা যুক্তরাজ্যে। শোক জানিয়েছে কমনওয়েলভুক্ত দেশগুলোসহ অন্য দেশগুলোর রাষ্ট্রনেতারাও। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
একসময় ব্রিটিশ শাসনে থাকা বাংলাদেশের মাটিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পা পড়েছে দুইবার। প্রথমবার তিনি ঢাকায় আসেন ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ঢাকা তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী। স্বাধীন বাংলাদেশে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এসেছিলেন ১৯৮৩ সালের নভেম্বরে। সেবার তিনি ঢাকা থেকে ট্রেনে করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালা গ্রাম দেখতে গিয়েছিলেন। চার দিনের ওই সফরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং ঢাকায় সেইভ দ্য চিলড্রেনের কার্যালয়ও পরিদর্শন করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার সিংহাসনে আরোহণের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৭৭ সালে কয়েকটি স্মারক ডাক টিকিটও প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ সরকার।
ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক ও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও বিশিষ্টজনরা। গভীর কর্তব্য নিষ্ঠা ও সহনশীলতার পাশাপাশি রানির রসবোধ ও সহৃদয়তার উল্লেখ করে তার প্রতি সম্মান জানিয়েছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ব্রিটিশ দূতাবাসে গিয়ে প্রয়াত রানি প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। শোক বইতে বাইডেন লিখেন, “তিনি একজন রানির চেয়েও বেশি কিছু। ইতিহাসের দীর্ঘ সময়কাল সংজ্ঞায়িত করেছেন তিনি।”
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্য সফরের কথা স্মরণ করে বাইডেন বলেন, “তিনি তার বুদ্ধির ঝলক দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করেছেন, উদারতা দিয়ে আমাদের আন্দোলিত করেছেন এবং উদারভাবে তার প্রজ্ঞা আমাদের সঙ্গে ভাগ করেছেন।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমান ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মায়ের মৃত্যুতে তার প্রতি ‘গভীর সমবেদনা’ জানিয়েছেন।পুতিন বলেছেন, “বহু দশক ধরে দ্বিতীয় এলিজাবেথ যথাযথভাবে তার প্রজাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এবং বিশ্ব মঞ্চে কর্তৃত্ব উপভোগ করেছেন।”
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শি জিনপিং চীনের সরকার, জনগণ ও তার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছে। রানির মৃত্যু ব্রিটিশ জনগণের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গভীর শোক প্রকাশ করে একজন ‘দয়ালু রানির’ কথা স্মরণ করেছেন যিনি ‘ফ্রান্সের বন্ধু ছিলেন’। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সব লাইট মধ্যরাতে বন্ধ করে রাখা হয়। জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে ‘পথিকৃৎ ও লাখো মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার’ পর জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক মেরামত করার ক্ষেত্রে রানির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিটিশ রানির মৃত্যুতে ‘বেদনাহত’ হওয়ার কথা জানিয়ে এক টুইটে বলেছেন, “রানি জনজীবনে ব্যক্তিত্বপূর্ণ মর্যাদা ও শিষ্টাচারের পরিচয় দিয়েছিলেন।” জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা রানির মৃত্যুতে ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছেন। রানির মৃত্যু শুধু ব্রিটেনের জনগণের জন্যই ‘বিরাট ক্ষতি’ নয়, বিশ্বের জন্যও বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এক ভিডিও শোক বার্তায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে ‘জ্ঞানী ও অনুপ্রেরণাদায়ী পথপ্রদর্শক’ বলে বর্ণনা করে তিনি লাখ লাখ অস্ট্রেলিয়ানের জন্য ‘সান্ত্বনা, আশা ও উদ্দীপনা’ বয়ে এনেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডিয়ানদের প্রতি রানির ‘সুস্পষ্ট গভীর ও স্থায়ী ভালবাসা’ ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকারে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, রানির প্রতিশ্রুতি ও নিবেদন পুরো বিশ্বের জন্য মহান ও মূলব্যান উদাহরণ। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো, কমনওয়েলথের মহাসচিব ব্যারনেস স্কটল্যান্ড, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং, ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো আদ্দো, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ডনাল্ড ট্রাম্পসহ আরও অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

শীত বস্ত্র বিতরণ করলো মোহাম্মদ নাসিম ফাউন্ডেশন

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের সাহায্যে শীত নিবারণ করছে পাবনার সাঁথিয়াবাসী। শীতের তীব্রতা অনেকাংশই বেশি এখানে। এছাড়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির...

মেধাবি সিয়ামের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন মানবিক এমপি জয়

মানবতায় এগিয়ে আসলেন সিরাজগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ও উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। এসএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে রাজশাহী বোর্ডে প্রথম...

বঙ্গবন্ধুকে ফিরে না পেলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেতো না : মেয়র তাপস

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি ১৯৭২ সালের ১০...

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার জানান, শুক্রবার থেকে তিন দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করবে বাংলাদেশ।

সত্তর বছর ধরে যুক্তরাজ্য শাসন করে আসা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর বছর। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে দ্বিতীয় এলিজাবেথ অধ্যায়ের যবনিকাপাত ঘটল। তার উত্তরসূরি হিসেবে সিংহাসনে আসছেন বড় ছেলে যুবরাজ চার্লস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন ক্ষয়িষ্ণু, সমা্জ যখন বদলাচ্ছে, তখন রাজদণ্ড হাতে নিয়ে রাজপরিবারের আসন অটুট রেখেছিলেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ, হয়েছিলেন সবার শ্রদ্ধার পাত্র।
রাজা ষষ্ঠ জর্জের মেয়ে হিসেবে ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ সিংহাসনে অভিষিক্ত হওয়া এলিজাবেথের শাসনকালই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দীর্ঘতম। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে গোটা যুক্তরাজ্যে। শোক জানিয়েছে কমনওয়েলভুক্ত দেশগুলোসহ অন্য দেশগুলোর রাষ্ট্রনেতারাও। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
একসময় ব্রিটিশ শাসনে থাকা বাংলাদেশের মাটিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পা পড়েছে দুইবার। প্রথমবার তিনি ঢাকায় আসেন ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ঢাকা তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী। স্বাধীন বাংলাদেশে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এসেছিলেন ১৯৮৩ সালের নভেম্বরে। সেবার তিনি ঢাকা থেকে ট্রেনে করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালা গ্রাম দেখতে গিয়েছিলেন। চার দিনের ওই সফরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং ঢাকায় সেইভ দ্য চিলড্রেনের কার্যালয়ও পরিদর্শন করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার সিংহাসনে আরোহণের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৭৭ সালে কয়েকটি স্মারক ডাক টিকিটও প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ সরকার।
ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক ও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও বিশিষ্টজনরা। গভীর কর্তব্য নিষ্ঠা ও সহনশীলতার পাশাপাশি রানির রসবোধ ও সহৃদয়তার উল্লেখ করে তার প্রতি সম্মান জানিয়েছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ব্রিটিশ দূতাবাসে গিয়ে প্রয়াত রানি প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। শোক বইতে বাইডেন লিখেন, “তিনি একজন রানির চেয়েও বেশি কিছু। ইতিহাসের দীর্ঘ সময়কাল সংজ্ঞায়িত করেছেন তিনি।”
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্য সফরের কথা স্মরণ করে বাইডেন বলেন, “তিনি তার বুদ্ধির ঝলক দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করেছেন, উদারতা দিয়ে আমাদের আন্দোলিত করেছেন এবং উদারভাবে তার প্রজ্ঞা আমাদের সঙ্গে ভাগ করেছেন।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমান ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মায়ের মৃত্যুতে তার প্রতি ‘গভীর সমবেদনা’ জানিয়েছেন।পুতিন বলেছেন, “বহু দশক ধরে দ্বিতীয় এলিজাবেথ যথাযথভাবে তার প্রজাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এবং বিশ্ব মঞ্চে কর্তৃত্ব উপভোগ করেছেন।”
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শি জিনপিং চীনের সরকার, জনগণ ও তার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছে। রানির মৃত্যু ব্রিটিশ জনগণের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গভীর শোক প্রকাশ করে একজন ‘দয়ালু রানির’ কথা স্মরণ করেছেন যিনি ‘ফ্রান্সের বন্ধু ছিলেন’। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সব লাইট মধ্যরাতে বন্ধ করে রাখা হয়। জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে ‘পথিকৃৎ ও লাখো মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার’ পর জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক মেরামত করার ক্ষেত্রে রানির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিটিশ রানির মৃত্যুতে ‘বেদনাহত’ হওয়ার কথা জানিয়ে এক টুইটে বলেছেন, “রানি জনজীবনে ব্যক্তিত্বপূর্ণ মর্যাদা ও শিষ্টাচারের পরিচয় দিয়েছিলেন।” জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা রানির মৃত্যুতে ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছেন। রানির মৃত্যু শুধু ব্রিটেনের জনগণের জন্যই ‘বিরাট ক্ষতি’ নয়, বিশ্বের জন্যও বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এক ভিডিও শোক বার্তায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে ‘জ্ঞানী ও অনুপ্রেরণাদায়ী পথপ্রদর্শক’ বলে বর্ণনা করে তিনি লাখ লাখ অস্ট্রেলিয়ানের জন্য ‘সান্ত্বনা, আশা ও উদ্দীপনা’ বয়ে এনেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডিয়ানদের প্রতি রানির ‘সুস্পষ্ট গভীর ও স্থায়ী ভালবাসা’ ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকারে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, রানির প্রতিশ্রুতি ও নিবেদন পুরো বিশ্বের জন্য মহান ও মূলব্যান উদাহরণ। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো, কমনওয়েলথের মহাসচিব ব্যারনেস স্কটল্যান্ড, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং, ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো আদ্দো, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ডনাল্ড ট্রাম্পসহ আরও অনেকে।