বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০২৪

  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজকের পত্রিকা  |  ই-পেপার  |  আর্কাইভ   |  কনভার্টার  |   অ্যাপস  |  বেটা ভার্সন

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০২৪

  |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজকের পত্রিকা  |  ই-পেপার  |  আর্কাইভ   |   কনভার্টার  |   অ্যাপস  |  বেটা ভার্সন

ভূ-গভীরে বৃষ্টির পানি পাঠাতে নতুন প্রকল্প নিচ্ছে সরকার

দেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে আশঙ্কাজনক হারে

বার্তা সরণি প্রতিবেদন

বার্তা সরণি প্রতিবেদন

| অনলাইন সংস্করণ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে আশঙ্কাজনক হারে। দখল-দূষণে নদী, খাল, বিল ধ্বংস করা ও পানির অপব্যবহার এর অন্যতম কারণ। জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা দেশের তালিকায় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১০টি দেশ স্থান পেয়েছে। সেই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামলে কমবে সুপেয় পানির উৎস। কৃষি ও শিল্পখাত পড়বে সমস্যায়। আশঙ্কা আছে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের। ইতিমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় বাড়ছে লবণাক্ততা। নলকূপে পানি উঠছে না; কোথাও-বা দূষিত কালো পানি উঠতে দেখা যাচ্ছে। পানির স্তর সুরক্ষা ও লবণাক্ততা দূর করতে নতুন একটি কৌশল নির্ধারণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি)। এরই মধ্যে ম্যানেজড অ্যাকোয়াফার রিচার্জ (মার) নামের প্রকল্পটির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখনও সরকারের অনুমোদন মেলেনি। কৃত্রিমভাবে ভূ-গভীরে বৃষ্টির পানি পাঠিয়ে দিতেই এ কৌশলের কথা ভাবা হচ্ছে।

সরকারও এমন একটি প্রকল্প নিতে চাচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) ভূগর্ভস্থ জলবিদ্যা অধিদফতরের পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ। তিনি বলেন, মার প্রকল্পটি এখনো নেয়া হয়নি। উপকূলীয় অঞ্চলসহ যেসব এলাকায় পানির স্তর নেমে যাচ্ছে—শ্যালো গ্রাউন্ড ওয়াটার বা অগভীর ভূগর্ভস্থ পানিতে, যেখানে হালকা লবণাক্ততা আছে—সেসব এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে এই প্রকল্প। তবে এমন উদ্যোগ থেকে কোনো কার্যকর ফল আসবে না বলে জানান পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক। তিনি বলেন, মার নামের এ প্রকল্প কার্যকর তো হবেই না; বরং এটি মারাত্মক ক্ষতিকর।

ভূ-গভীরের যেখানে পানির মজুত কম, সেখানে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টির পানি ঢুকিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ড. জাহিদ। এ ছাড়া লবণাক্ততার মাত্রা কমিয়ে আনতেও এই কৌশল কাজে লাগানো হবে। এ জন্য কিছু পরীক্ষামূলক গবেষণাও হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগীয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (ডিপিইসি), ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কিছু এনজিও এ গবেষণা করেছে।

গত ৫০ বছরে ঢাকার কেন্দ্রীয় অংশে প্রায় ৭৫ মিটার পানি নেমে গেছে। এ অবস্থা থেকে আগের পর্যায়ে যাওয়া কঠিন। কারণ পানি তোলা হয়তো বন্ধ করা যাবে না। এই পানির স্তরের পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি করতে ব্যর্থ হলে ওয়াসার ক্রমবর্ধমান পানি উত্তোলনের খরচ আরও বাড়বে, পানির গুণমানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। শেষ পর্যন্ত ভূ-অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে, যার ফলে ভূমি দেবে যেতে পারে।

এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১৭৫টিরও বেশি ভূমি তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যার বেশির ভাগই ব্যাংকক, মেক্সিকো সিটি, জাকার্তা ও ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার মতো বড় শহরগুলোতে ঘটে। মারের খসড়া কৌশল অনুসারে, ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর ও উপকূলীয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। আর তা কাটিয়ে উঠতে মানুষের খাওয়া, কৃষি, শিল্প ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশুদ্ধ পানি সহজলভ্য করবে এই প্রকল্প। মারের খসড়া কৌশলে বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানি সম্পদ যাতে ফুরিয়ে না যায় এবং ভূমির অবনমন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এ প্রকল্প। এছাড়া কূপ, ঝরনা, জলাভূমি ও পানিপ্রবাহ শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে হবে। উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির উৎস তৈরি করাও মারের উদ্দেশ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

শীত বস্ত্র বিতরণ করলো মোহাম্মদ নাসিম ফাউন্ডেশন

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের সাহায্যে শীত নিবারণ করছে পাবনার সাঁথিয়াবাসী। শীতের তীব্রতা অনেকাংশই বেশি এখানে। এছাড়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির...

মেধাবি সিয়ামের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন মানবিক এমপি জয়

মানবতায় এগিয়ে আসলেন সিরাজগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ও উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। এসএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে রাজশাহী বোর্ডে প্রথম...

বঙ্গবন্ধুকে ফিরে না পেলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেতো না : মেয়র তাপস

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি ১৯৭২ সালের ১০...

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে আশঙ্কাজনক হারে। দখল-দূষণে নদী, খাল, বিল ধ্বংস করা ও পানির অপব্যবহার এর অন্যতম কারণ। জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা দেশের তালিকায় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১০টি দেশ স্থান পেয়েছে। সেই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামলে কমবে সুপেয় পানির উৎস। কৃষি ও শিল্পখাত পড়বে সমস্যায়। আশঙ্কা আছে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের। ইতিমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় বাড়ছে লবণাক্ততা। নলকূপে পানি উঠছে না; কোথাও-বা দূষিত কালো পানি উঠতে দেখা যাচ্ছে। পানির স্তর সুরক্ষা ও লবণাক্ততা দূর করতে নতুন একটি কৌশল নির্ধারণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি)। এরই মধ্যে ম্যানেজড অ্যাকোয়াফার রিচার্জ (মার) নামের প্রকল্পটির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখনও সরকারের অনুমোদন মেলেনি। কৃত্রিমভাবে ভূ-গভীরে বৃষ্টির পানি পাঠিয়ে দিতেই এ কৌশলের কথা ভাবা হচ্ছে।

সরকারও এমন একটি প্রকল্প নিতে চাচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) ভূগর্ভস্থ জলবিদ্যা অধিদফতরের পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ। তিনি বলেন, মার প্রকল্পটি এখনো নেয়া হয়নি। উপকূলীয় অঞ্চলসহ যেসব এলাকায় পানির স্তর নেমে যাচ্ছে—শ্যালো গ্রাউন্ড ওয়াটার বা অগভীর ভূগর্ভস্থ পানিতে, যেখানে হালকা লবণাক্ততা আছে—সেসব এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে এই প্রকল্প। তবে এমন উদ্যোগ থেকে কোনো কার্যকর ফল আসবে না বলে জানান পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক। তিনি বলেন, মার নামের এ প্রকল্প কার্যকর তো হবেই না; বরং এটি মারাত্মক ক্ষতিকর।

ভূ-গভীরের যেখানে পানির মজুত কম, সেখানে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টির পানি ঢুকিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ড. জাহিদ। এ ছাড়া লবণাক্ততার মাত্রা কমিয়ে আনতেও এই কৌশল কাজে লাগানো হবে। এ জন্য কিছু পরীক্ষামূলক গবেষণাও হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগীয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (ডিপিইসি), ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কিছু এনজিও এ গবেষণা করেছে।

গত ৫০ বছরে ঢাকার কেন্দ্রীয় অংশে প্রায় ৭৫ মিটার পানি নেমে গেছে। এ অবস্থা থেকে আগের পর্যায়ে যাওয়া কঠিন। কারণ পানি তোলা হয়তো বন্ধ করা যাবে না। এই পানির স্তরের পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি করতে ব্যর্থ হলে ওয়াসার ক্রমবর্ধমান পানি উত্তোলনের খরচ আরও বাড়বে, পানির গুণমানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। শেষ পর্যন্ত ভূ-অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে, যার ফলে ভূমি দেবে যেতে পারে।

এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১৭৫টিরও বেশি ভূমি তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যার বেশির ভাগই ব্যাংকক, মেক্সিকো সিটি, জাকার্তা ও ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার মতো বড় শহরগুলোতে ঘটে। মারের খসড়া কৌশল অনুসারে, ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর ও উপকূলীয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। আর তা কাটিয়ে উঠতে মানুষের খাওয়া, কৃষি, শিল্প ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশুদ্ধ পানি সহজলভ্য করবে এই প্রকল্প। মারের খসড়া কৌশলে বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানি সম্পদ যাতে ফুরিয়ে না যায় এবং ভূমির অবনমন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এ প্রকল্প। এছাড়া কূপ, ঝরনা, জলাভূমি ও পানিপ্রবাহ শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে হবে। উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির উৎস তৈরি করাও মারের উদ্দেশ্য।