শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজকের পত্রিকা  |  ই-পেপার  |  আর্কাইভ   |  কনভার্টার  |   অ্যাপস  |  বেটা ভার্সন

শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

  |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজকের পত্রিকা  |  ই-পেপার  |  আর্কাইভ   |   কনভার্টার  |   অ্যাপস  |  বেটা ভার্সন

পর্দা নামল লিট ফেস্টের

বার্তা সরণি প্রতিবেদন

বার্তা সরণি প্রতিবেদন

| অনলাইন সংস্করণ

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:
সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদদের দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসর রবিবার শেষ হয়েছে। চার দিনের এই মিলনমেলায় ১৭৫টি সেশনে সাহিত্য, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের আলোচনা করেন পাঁচ মহাদেশের পাঁচ শতাধিক বক্তা, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী ও চিন্তাবিদ। সমাপনী দিনে বাংলা একাডেমির আবদুুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে নৃত্য পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শেষ করা হয় আসর।

রবিবার সকালে হিমশীতল কনকনে পরিবেশে কীর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাপনী আসর। আবদুুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘ডিজারশন’ শিরোনামের সেশনে এদিন নিজের শৈশব, পড়াশোনা ও লেখালেখিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন নোবেলজয়ী লেখক আবদুলরাজাক গুরনাহ। তিনি বলেন, শিক্ষা বলতে স্কুলেই শুরু। পঞ্চম শ্রেণি থেকে আমি একটি সরকারি স্কুলে লেখাপড়া শুরু করি। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরকারি স্কুল শেষ করে দুপুরের খাবার খেতাম বাসায়। বেলা ২টা থেকে আবার আরেকটি স্কুলে যেতাম। সেখানে কোরআন শেখানো হতো। দুই ঘণ্টা কোরআন স্কুলে থাকতাম। এই স্কুলের একটি ভালো দিক ছিল, পবিত্র কোরআন পুরোটা পড়া শেষ হলে পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরীক্ষায় পাস করলে গ্র্যাজুয়েট বলা হতো। তারপর আর কোরআন স্কুলে যাওয়া লাগত না। অন্য বিশেষ একটি কারণে, হয়তোবা বিশেষ প্রতিভার কারণে আমি দুবার পড়া শেষ করেছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। যুক্তরাজ্যে নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানকার মানুষ কোনো কিছু বলার আগে চিন্তা করে না। অসংবেদনশীল, নির্মম শব্দ ব্যবহার করত। মুখের ওপর বাজে কথা বলে দিত এবং কোনো অনুশোচনাবোধ ছিল না। অসচেতনতায় বর্ণবাদী আচরণ করলেও তারা সেটি আসলেই মিন করত। ‘রান অ্যান্ড হাইড’ শীর্ষক সেশনে কথা বলেন ভারতীয় ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার পঙ্কজ মিশ্র ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ গর্ডন গ্রিনিজ। একাডেমির লনে ‘বিশ্বায়নের কালে ভবিষ্যতের কবিতা’ শিরোনামে সেশনটি সঞ্চালনা করেন কবি আশরাফ জুয়েল। আলোচনা করেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা ও পশ্চিমবঙ্গের কবি গৌতম গুহ রায়।

দুপুর সাড়ে ১২টায় পুরুষত্ব বনাম পুরুষতন্ত্র বিষয়ে আলাপে মজেন অভিনয় শিল্পী ইরেশ জাকের, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহিন সুলতান, ব্র্যাক জেন্ডার, জাস্টিজ ও ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম পরিচালক নবনীতা চৌধুরী, অভিনয় শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, তাকবীর হুদা, আইনজীবী তাসাফফি হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা।
‘ভুল তথ্যের যুগে স্বাস্থ্য’ নিয়ে আলোচনা করেছেন রেসা লুইস ও বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। ‘কোন বই পড়তে হবে! এটি নির্ধারণ করবে কে?’ এ নিয়েও হয় আলোচনা। খাবার বিষয়ে আলোচনা করেন খাবার বিষয়ক বই লেখক ও শেফ ভ্যালেন্টাইন ওয়ারনার, তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক আহসান আকবার। দিনশেষে চমক হিসেবে ছিল কোক স্টুডিও বাংলার কনসার্ট। এতে অংশ নেন অনিমেষ রায়, পান্থ কানাই, ঋতুরাজ, নন্দিতা, সুনিধি নায়েক, রুবায়াত রেহমান ও বগা তালেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

শীত বস্ত্র বিতরণ করলো মোহাম্মদ নাসিম ফাউন্ডেশন

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের সাহায্যে শীত নিবারণ করছে পাবনার সাঁথিয়াবাসী। শীতের তীব্রতা অনেকাংশই বেশি এখানে। এছাড়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির...

মেধাবি সিয়ামের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন মানবিক এমপি জয়

মানবতায় এগিয়ে আসলেন সিরাজগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ও উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। এসএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে রাজশাহী বোর্ডে প্রথম...

বঙ্গবন্ধুকে ফিরে না পেলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেতো না : মেয়র তাপস

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি ১৯৭২ সালের ১০...

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:
সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদদের দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসর রবিবার শেষ হয়েছে। চার দিনের এই মিলনমেলায় ১৭৫টি সেশনে সাহিত্য, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের আলোচনা করেন পাঁচ মহাদেশের পাঁচ শতাধিক বক্তা, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী ও চিন্তাবিদ। সমাপনী দিনে বাংলা একাডেমির আবদুুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে নৃত্য পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শেষ করা হয় আসর।

রবিবার সকালে হিমশীতল কনকনে পরিবেশে কীর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাপনী আসর। আবদুুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘ডিজারশন’ শিরোনামের সেশনে এদিন নিজের শৈশব, পড়াশোনা ও লেখালেখিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন নোবেলজয়ী লেখক আবদুলরাজাক গুরনাহ। তিনি বলেন, শিক্ষা বলতে স্কুলেই শুরু। পঞ্চম শ্রেণি থেকে আমি একটি সরকারি স্কুলে লেখাপড়া শুরু করি। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরকারি স্কুল শেষ করে দুপুরের খাবার খেতাম বাসায়। বেলা ২টা থেকে আবার আরেকটি স্কুলে যেতাম। সেখানে কোরআন শেখানো হতো। দুই ঘণ্টা কোরআন স্কুলে থাকতাম। এই স্কুলের একটি ভালো দিক ছিল, পবিত্র কোরআন পুরোটা পড়া শেষ হলে পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরীক্ষায় পাস করলে গ্র্যাজুয়েট বলা হতো। তারপর আর কোরআন স্কুলে যাওয়া লাগত না। অন্য বিশেষ একটি কারণে, হয়তোবা বিশেষ প্রতিভার কারণে আমি দুবার পড়া শেষ করেছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। যুক্তরাজ্যে নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানকার মানুষ কোনো কিছু বলার আগে চিন্তা করে না। অসংবেদনশীল, নির্মম শব্দ ব্যবহার করত। মুখের ওপর বাজে কথা বলে দিত এবং কোনো অনুশোচনাবোধ ছিল না। অসচেতনতায় বর্ণবাদী আচরণ করলেও তারা সেটি আসলেই মিন করত। ‘রান অ্যান্ড হাইড’ শীর্ষক সেশনে কথা বলেন ভারতীয় ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার পঙ্কজ মিশ্র ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ গর্ডন গ্রিনিজ। একাডেমির লনে ‘বিশ্বায়নের কালে ভবিষ্যতের কবিতা’ শিরোনামে সেশনটি সঞ্চালনা করেন কবি আশরাফ জুয়েল। আলোচনা করেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা ও পশ্চিমবঙ্গের কবি গৌতম গুহ রায়।

দুপুর সাড়ে ১২টায় পুরুষত্ব বনাম পুরুষতন্ত্র বিষয়ে আলাপে মজেন অভিনয় শিল্পী ইরেশ জাকের, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহিন সুলতান, ব্র্যাক জেন্ডার, জাস্টিজ ও ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম পরিচালক নবনীতা চৌধুরী, অভিনয় শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, তাকবীর হুদা, আইনজীবী তাসাফফি হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা।
‘ভুল তথ্যের যুগে স্বাস্থ্য’ নিয়ে আলোচনা করেছেন রেসা লুইস ও বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। ‘কোন বই পড়তে হবে! এটি নির্ধারণ করবে কে?’ এ নিয়েও হয় আলোচনা। খাবার বিষয়ে আলোচনা করেন খাবার বিষয়ক বই লেখক ও শেফ ভ্যালেন্টাইন ওয়ারনার, তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক আহসান আকবার। দিনশেষে চমক হিসেবে ছিল কোক স্টুডিও বাংলার কনসার্ট। এতে অংশ নেন অনিমেষ রায়, পান্থ কানাই, ঋতুরাজ, নন্দিতা, সুনিধি নায়েক, রুবায়াত রেহমান ও বগা তালেব।