শনিবার, জুলাই ২০, ২০২৪

  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজকের পত্রিকা  |  ই-পেপার  |  আর্কাইভ   |  কনভার্টার  |   অ্যাপস  |  বেটা ভার্সন

শনিবার, জুলাই ২০, ২০২৪

  |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজকের পত্রিকা  |  ই-পেপার  |  আর্কাইভ   |   কনভার্টার  |   অ্যাপস  |  বেটা ভার্সন

কঠোর অবস্থানে দুই পক্ষের সমর্থকরাই

কাদের-রওশনের দ্বন্দ্বে ফের ভাঙ্গনের সুর জাতীয় পার্টিতে

বার্তা সরণি প্রতিবেদন

বার্তা সরণি প্রতিবেদন

| অনলাইন সংস্করণ

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:
আবারও ভাঙ্গনের মুখে জাতীয় পার্টি। রওশন এরশাদপন্থীরা ২৬ নবেম্বর কাউন্সিল করতে অটল। অন্যদিকে জিএম কাদেরপন্থীরা প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তিনি যে পর্যায়ের নেতাই হোন না কেন, তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে।

প্রেসিডিয়াম সভায় এটাই ইঙ্গিত দেয়া হয় রওশনপন্থীদের কাউন্সিল ঘিরে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে। যদি কাউকে বহিষ্কার করা হয়, সে ক্ষেত্রে দল আরেক দফা ভাঙ্গনের মুখে পড়বে। পার্টির একাধিক নেতার মন্তব্য, জাপার নেতৃত্বে নতুন মোড় নিতে পারে শীঘ্র্রই।

কাউন্সিল এবং বিরোধীদলীয় নেতা নিয়ে জাতীয় পার্টিতে এখন ভাঙ্গনের সুর বেজে উঠেছে। রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, আমরা কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাব। ২৬ নবেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হবে। জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল স্পীকারের কাছে যে চিঠি দিয়েছে তাতে আমরা বিক্ষুব্ধ হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি, অবাক হয়েছি। আমাদের করণীয় কি আছে ? বেগম রওশন এরশাদ এ মাসেই দেশে ফিরবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি জানাবেন।

পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভায় জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। এ সমস্ত ঘটনায় দলের মধ্যে পার্টিতে আরও বেশি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এর আগে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদের জীবদ্দশায় পাঁচবার ভেঙ্গেছে পার্টি। ১৯৯১ সালে প্রথম জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে আলাদা জাতীয় পার্টি করেন এম এ মতিন। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি জোটে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন নাজিউর রহমান মঞ্জু। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে পৃথক জাতীয় পার্টি গঠন করেন কাজী জাফর আহমেদ ও মোস্তফা জামাল হায়দার। এর আগে ২০০১ সালে কাজী জাফর আহমেদ ও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন দল থেকে বেরিয়ে যান, কিছুদিন পর কাজী জাফর ফিরলেও শাহ মোয়াজ্জেম ফেরেননি। দল ভাঙ্গার পরও জাতীয় পার্টির মূল অংশ এখন এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদেরের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির মোট ৭৬টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে ৪২টি জেলায়।

রওশন এরশাদ দলীয় প্যাডে পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের সর্বকালের পরীক্ষিত ও নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীরা যারা দল ত্যাগ করেছেন বা চলে গেছেন তাদেরকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে এখন যারা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, কাজী জাফর ও নাজিউর রহমান মঞ্জুর দলে আছেন। পার্টিতে অবশ্যই নতুন প্রজন্মের তরুণ নেতাদের এবং বিশ্ববিদ্যালয় ঘাতকদের পার্টিতে আমন্ত্রণ ও স্থান করে দিতে হবে। যাতে আমরা আমাদের এমপি কোটায় ৫০ ভাগ এই নতুন প্রজন্মের স্থান করে দিতে পারি। পুরুষ ও মহিলাদের স্থান করে দিতে পারি। জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পার্টিকে প্রস্তুত ও শক্তিশালী করতে হবে।

পার্টি সূত্রে জানা গেছে, রওশন এরশাদ পার্টির সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। কিন্তু সারাদেশে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যে বয়সের প্রয়োজন, তার এখন তা নেই। ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান করেন এরশাদ। রওশন এরশাদ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। নানা নাটকীয়তার পর তাকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করা হয়। একাদশ নির্বাচনের পর প্রথমে জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হয়। পরে তাকে সরিয়ে রওশন এরশাদকে এ পদ দেন এরশাদ। জিএম কাদের তখন কো-চেয়ারমম্যান পদ হারালেও পরে রংপুরের নেতাদের চাপে ফিরে পান।

গত ৩১ আগস্ট জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি ২৬ নবেম্বর দলের দশম জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দেন। এর পরই দল নড়ে চড়ে বসে। এরপর ১ সেপ্টেম্বর রওশন এরশাদকে সরিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় পার্টি। বিরোধীদলীয় নেতার পদে জিএম কাদেরকে মনোনয়ন দিতে স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠিও দিয়েছে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। চিঠিতে বলা হয় বিরোধীদলীয় নেতা অনেকদিন ধরে অসুস্থ।

তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে সংসদেও ঠিকমতো আসতে পারছেন না। এজন্য সংসদীয় দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই বৈঠকে ২৬ জন এমপির মধ্যে ২৩ জন উপস্থিত ছিলেন এবং একজন টেলিফোনে তার সম্মতির কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর শনিবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ।

শনিবার সকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের সভাপতিত্বে পার্টির প্রেসিডিয়ামের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানান প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তিনি যে পর্যায়ের নেতাই হোন না কেন, তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এদিকে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, ২৬ নবেম্বর দশম জাতীয় কাউন্সিল হবে। বর্তমান কমিটি কাউন্সিল না হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকবে। আর কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রস্তুতি নেবে। কাউন্সিল আহ্বানের চিঠিতে বলা হয়, আমি বেগম রওশন এরশাদ (এমপি) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জাতীয় পার্টির গঠনতান্ত্রিক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পার্টির দশম কাউন্সিল আহ্বান করছি। এ কাউন্সিল ২০২২ সালের ২৬ নবেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে জিএম কাদেরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, দলের গঠনতন্ত্রের ধারা ১২ এবং উপধারা ১/২ অনুযায়ী কাউন্সিলের তারিখ, স্থান ও সময় প্রেসিডিয়াম কর্তৃক নির্ধারিত হবে। তাছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যিনি প্রেসিডিয়ামেরও সভাপতি কর্তৃক কাউন্সিল অনুষ্ঠানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এর বাইরে কারও কাউন্সিল আহ্বানের এখতিয়ার নেই। জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি এবং এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ঘোষণার বিষয়ে অবগত নন।

রওশনের চিঠিতে বলা হয়, আমি দীর্ঘদিন ধরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এ সময় আমি লক্ষ্য করি, জাতীয় পার্টির গঠনতান্ত্রিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, নিয়মাবলি এবং পার্টির মূল আদর্শ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বর্তমানে পার্টি দলের আদর্শ, নিয়ম ও নীতিমালা থেকে সরে গিয়ে ভ্রান্তপথে অগ্রসর হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

শীত বস্ত্র বিতরণ করলো মোহাম্মদ নাসিম ফাউন্ডেশন

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের সাহায্যে শীত নিবারণ করছে পাবনার সাঁথিয়াবাসী। শীতের তীব্রতা অনেকাংশই বেশি এখানে। এছাড়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির...

মেধাবি সিয়ামের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন মানবিক এমপি জয়

মানবতায় এগিয়ে আসলেন সিরাজগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ও উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। এসএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে রাজশাহী বোর্ডে প্রথম...

বঙ্গবন্ধুকে ফিরে না পেলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেতো না : মেয়র তাপস

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি ১৯৭২ সালের ১০...

বার্তা সরণি প্রতিবেদক:
আবারও ভাঙ্গনের মুখে জাতীয় পার্টি। রওশন এরশাদপন্থীরা ২৬ নবেম্বর কাউন্সিল করতে অটল। অন্যদিকে জিএম কাদেরপন্থীরা প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তিনি যে পর্যায়ের নেতাই হোন না কেন, তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে।

প্রেসিডিয়াম সভায় এটাই ইঙ্গিত দেয়া হয় রওশনপন্থীদের কাউন্সিল ঘিরে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে। যদি কাউকে বহিষ্কার করা হয়, সে ক্ষেত্রে দল আরেক দফা ভাঙ্গনের মুখে পড়বে। পার্টির একাধিক নেতার মন্তব্য, জাপার নেতৃত্বে নতুন মোড় নিতে পারে শীঘ্র্রই।

কাউন্সিল এবং বিরোধীদলীয় নেতা নিয়ে জাতীয় পার্টিতে এখন ভাঙ্গনের সুর বেজে উঠেছে। রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, আমরা কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাব। ২৬ নবেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হবে। জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল স্পীকারের কাছে যে চিঠি দিয়েছে তাতে আমরা বিক্ষুব্ধ হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি, অবাক হয়েছি। আমাদের করণীয় কি আছে ? বেগম রওশন এরশাদ এ মাসেই দেশে ফিরবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি জানাবেন।

পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভায় জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। এ সমস্ত ঘটনায় দলের মধ্যে পার্টিতে আরও বেশি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এর আগে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদের জীবদ্দশায় পাঁচবার ভেঙ্গেছে পার্টি। ১৯৯১ সালে প্রথম জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে আলাদা জাতীয় পার্টি করেন এম এ মতিন। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি জোটে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন নাজিউর রহমান মঞ্জু। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে পৃথক জাতীয় পার্টি গঠন করেন কাজী জাফর আহমেদ ও মোস্তফা জামাল হায়দার। এর আগে ২০০১ সালে কাজী জাফর আহমেদ ও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন দল থেকে বেরিয়ে যান, কিছুদিন পর কাজী জাফর ফিরলেও শাহ মোয়াজ্জেম ফেরেননি। দল ভাঙ্গার পরও জাতীয় পার্টির মূল অংশ এখন এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদেরের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির মোট ৭৬টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে ৪২টি জেলায়।

রওশন এরশাদ দলীয় প্যাডে পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের সর্বকালের পরীক্ষিত ও নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীরা যারা দল ত্যাগ করেছেন বা চলে গেছেন তাদেরকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে এখন যারা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, কাজী জাফর ও নাজিউর রহমান মঞ্জুর দলে আছেন। পার্টিতে অবশ্যই নতুন প্রজন্মের তরুণ নেতাদের এবং বিশ্ববিদ্যালয় ঘাতকদের পার্টিতে আমন্ত্রণ ও স্থান করে দিতে হবে। যাতে আমরা আমাদের এমপি কোটায় ৫০ ভাগ এই নতুন প্রজন্মের স্থান করে দিতে পারি। পুরুষ ও মহিলাদের স্থান করে দিতে পারি। জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পার্টিকে প্রস্তুত ও শক্তিশালী করতে হবে।

পার্টি সূত্রে জানা গেছে, রওশন এরশাদ পার্টির সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। কিন্তু সারাদেশে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যে বয়সের প্রয়োজন, তার এখন তা নেই। ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান করেন এরশাদ। রওশন এরশাদ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। নানা নাটকীয়তার পর তাকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করা হয়। একাদশ নির্বাচনের পর প্রথমে জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হয়। পরে তাকে সরিয়ে রওশন এরশাদকে এ পদ দেন এরশাদ। জিএম কাদের তখন কো-চেয়ারমম্যান পদ হারালেও পরে রংপুরের নেতাদের চাপে ফিরে পান।

গত ৩১ আগস্ট জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি ২৬ নবেম্বর দলের দশম জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দেন। এর পরই দল নড়ে চড়ে বসে। এরপর ১ সেপ্টেম্বর রওশন এরশাদকে সরিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় পার্টি। বিরোধীদলীয় নেতার পদে জিএম কাদেরকে মনোনয়ন দিতে স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠিও দিয়েছে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। চিঠিতে বলা হয় বিরোধীদলীয় নেতা অনেকদিন ধরে অসুস্থ।

তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে সংসদেও ঠিকমতো আসতে পারছেন না। এজন্য সংসদীয় দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই বৈঠকে ২৬ জন এমপির মধ্যে ২৩ জন উপস্থিত ছিলেন এবং একজন টেলিফোনে তার সম্মতির কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর শনিবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ।

শনিবার সকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের সভাপতিত্বে পার্টির প্রেসিডিয়ামের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানান প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তিনি যে পর্যায়ের নেতাই হোন না কেন, তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এদিকে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, ২৬ নবেম্বর দশম জাতীয় কাউন্সিল হবে। বর্তমান কমিটি কাউন্সিল না হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকবে। আর কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রস্তুতি নেবে। কাউন্সিল আহ্বানের চিঠিতে বলা হয়, আমি বেগম রওশন এরশাদ (এমপি) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জাতীয় পার্টির গঠনতান্ত্রিক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পার্টির দশম কাউন্সিল আহ্বান করছি। এ কাউন্সিল ২০২২ সালের ২৬ নবেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে জিএম কাদেরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, দলের গঠনতন্ত্রের ধারা ১২ এবং উপধারা ১/২ অনুযায়ী কাউন্সিলের তারিখ, স্থান ও সময় প্রেসিডিয়াম কর্তৃক নির্ধারিত হবে। তাছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যিনি প্রেসিডিয়ামেরও সভাপতি কর্তৃক কাউন্সিল অনুষ্ঠানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এর বাইরে কারও কাউন্সিল আহ্বানের এখতিয়ার নেই। জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি এবং এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ঘোষণার বিষয়ে অবগত নন।

রওশনের চিঠিতে বলা হয়, আমি দীর্ঘদিন ধরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এ সময় আমি লক্ষ্য করি, জাতীয় পার্টির গঠনতান্ত্রিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, নিয়মাবলি এবং পার্টির মূল আদর্শ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বর্তমানে পার্টি দলের আদর্শ, নিয়ম ও নীতিমালা থেকে সরে গিয়ে ভ্রান্তপথে অগ্রসর হচ্ছে।